পেয়ারা চাষ: চারা রোপণের উপযুক্ত সময় এবং সঠিক পরিচর্যা
১. গাছ রোপণের সময় (Tree Planting Time)
পেয়ারার চারা বা কলম রোপণের জন্য আবহাওয়া ও আর্দ্রতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
২. গাছের পরিচর্যা (Tree Care and Maintenance)
পেয়ারা গাছ থেকে সারা বছর বা নির্দিষ্ট মৌসুমে প্রচুর ফলন পেতে নিয়মিত ও সঠিক যত্ন নেওয়া অপরিহার্য:
সার প্রয়োগ: (Fertilizer Application:)
চারা রোপণের অন্তত ১৫-২০ দিন আগে গর্ত তৈরি করে তাতে পচা গোবর বা জৈব সার, টিএসপি এবং পটাশ সার ভালোভাবে মাটির সাথে মিশিয়ে রেখে দিতে হবে।
গাছ বড় হওয়ার পর বছরে অন্তত দুবার (বর্ষার শুরুতে এবং বর্ষার শেষে) গাছের বয়স ও আকার অনুযায়ী সুষম মাত্রায় ইউরিয়া, টিএসপি, এমওপি, জিপসাম এবং দস্তা সার গাছের গোড়া থেকে কিছুটা দূরে রিং আকারে প্রয়োগ করতে হবে।
সেচ ও পানি নিষ্কাশন: (Irrigation and Drainage:)
শীতকালে বা খরা মৌসুমে পেয়ারা গাছে ফুল ও ফল আসার পর ১৫-২০ দিন পরপর সেচ দেওয়া প্রয়োজন। এতে ফলের আকার বড় হয় এবং অকালে ফল ঝরে পড়ে না।
বর্ষাকালে গাছের গোড়ায় যেন কোনোভাবেই পানি না জমে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। জলাবদ্ধতা পেয়ারা গাছের শিকড় পচিয়ে দিতে পারে।
ডালপালা ছাঁটাই (Pruning) ও ডাল বাঁকানো:
পেয়ারার ফলন বহুগুণ বাড়াতে 'ডাল বাঁকানো' পদ্ধতি অত্যন্ত কার্যকর। গাছের সোজা ডালগুলো সুতলি দিয়ে নিচের দিকে একটু বাঁকিয়ে বেঁধে রাখলে নতুন কুশি বেশি বের হয় এবং সেসব নতুন ডালে প্রচুর ফুল ও ফল আসে।
গাছের মরা, রোগাক্রান্ত এবং অতিরিক্ত ঘন ডালপালা নিয়মিত ছেঁটে দিতে হবে, যাতে গাছের ভেতরে পর্যাপ্ত রোদ ও বাতাস ঢুকতে পারে।
ফ্রুট ব্যাগিং (Fruit Bagging):
পেয়ারা মার্বেল আকৃতির চেয়ে একটু বড় হলে পলিথিন, খবরের কাগজ বা বিশেষ ফ্রুট ব্যাগ দিয়ে প্রতিটি ফল বা ফলের থোকা ঢেকে দিতে হবে। এতে ক্ষতিকর ফলের মাছি পোকার (Fruit Fly) আক্রমণ থেকে ফল রক্ষা পায়, ফলের রঙ সুন্দর হয় এবং বাজারদর ভালো পাওয়া যায়।


